আরিশা — ৯
October 16, 2026, 11:10 PM (GMT+6)
প্রায় এক মাস ধরে অন্যমনস্কতা আর উদ্দেশ্যহীনতাকে প্রতিদিনের সঙ্গী করে পড়াশোনার সাথে লড়াই করার পর অবশেষে আজ আরিশার HSC পরীক্ষার শেষ দিন। কলমের আগা যেমন তার পরীক্ষার খাতার পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা জুড়ে কালো রঙের কালি লেপে দিচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে হৃদয়ের আগায় জমে থাকা আরিয়ানের সাথে তার সুখের সংসারের স্বপ্নটি যেন আরিশার দেহের প্রতিটি রক্তকণায় ভালোবাসার এক মায়াবী ধাক্কার সৃষ্টি করছে।
পরীক্ষা শেষ করে হল থেকে বেরোতেই আরিশার সঙ্গে দেখা হয় আরিয়ানের—সে আরিশার জন্যই অপেক্ষা করছিল।
আরিয়ান বলে, “এখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই বাসায় ফিরে যাই। বিকেলের দিকে, তোমার বাবা যখন কাজে থাকবেন আর মা যখন ব্যস্ত থাকবেন, তখন খাতা কেনার বাহানা করে বাসা থেকে বেরিয়ে আমাদের কলেজের সামনে আসবে। সেখান থেকে আমরা পাঁচটার সময় বাসে উঠব।”
“আমার কি কিছু সঙ্গে আনতে হবে?”
“না, কিছু দরকার নেই। জামাকাপড়ের ব্যবস্থা পরে হবে।”
যেমন পরিকল্পনা, তেমনই কাজ। বিকেলে বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আরিশা একবারের জন্যও পেছন ফিরে তাকায় না। এতগুলো বছর যে মানুষগুলো তার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানসহ জীবনের মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন, আজ তাদের ছেড়ে চলে যাওয়ার মুহূর্তে আরিশার মনে যেন কোনো দ্বিধাই নেই। যে সম্পর্কগুলো এত বছর ধরে তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ছিল, এক নতুন জীবনের আশায় সেগুলোই যেন মুহূর্তের মধ্যে তার কাছে তুচ্ছ হয়ে ওঠে।
আরিশা আর আরিয়ান বাসে ওঠে। জানালার পাশে বসে আরিশা। আরিয়ান তার ব্যাগটা পায়ের কাছে রেখে বসে তার পাশের সিটে।
অবশেষে বাস চলতে শুরু করে। জানালার কাচের ওপারে দৃশ্যগুলো ধীরে ধীরে পেছনে সরে যেতে থাকে। কিছুক্ষণ পর ঠান্ডায় আরিশার শরীর কেঁপে ওঠে। সে দুই হাত দিয়ে নিজেকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে।
আরিয়ানকে কিছু বলতে হয় না। তার অস্বস্তি বুঝতে পেরে আরিয়ান নিজেই ব্যাগ থেকে একটা মোটা চাদর বের করে আলতো করে তার গায়ে জড়িয়ে দেয়। চাদরের উষ্ণতায় আরিশার ঠোঁটের কোণে একটুকরো হাসি ফুটে ওঠে।