আরিশা — ৮
October 15, 2026, 11:15 PM (GMT+6)
রাত আটটার দিকে আরিশার মা তাকে পাশের দোকান থেকে এক হালি ডিম কিনে আনতে বলে। মায়ের জোরাজুরিতে বাবা পঞ্চাশ টাকা এগিয়ে দিলে আরিশা তা নিয়ে বাসা থেকে বের হয়। রাতের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তার মায়াবী চোখ দুটি আটকে যায় এক অপরূপ দৃশ্যে—তারায় ঘেরা রাতের আকাশে।
সে অবাক হয়ে লক্ষ করে, পাশাপাশি দুটি তারা জ্বলজ্বল করছে। কিছুক্ষণ পরপর তাদের উজ্জ্বলতা বেড়ে উঠছে, আবার ধীরে ধীরে ফিরে যাচ্ছে আশপাশের অন্য তারাগুলোর মতো ম্লান আলোয়। আরিশার মনে হয়, তারা দুটি যেন নিজেদের মধ্যে কথা বলছে—ভাগ করে নিচ্ছে মনের একান্ত অনুভূতিগুলো।
তার মাথায় একের পর এক অদ্ভুত প্রশ্ন জাগতে থাকে।
আকাশের তারারা কি একে অপরের সঙ্গে কথা বলে? আমরা যেমন কণ্ঠস্বর দিয়ে নিজেদের ভাব প্রকাশ করি, তারাও কি তেমনই তাদের আলোর মাধ্যমে মনের কথা জানায়—যা আমাদের বোঝার ক্ষমতা নেই, ঠিক যেমন আমরা পাখিদের কিচিরমিচির শুনতে পেলেও তাদের কথার অর্থ বুঝতে পারি না?
আচ্ছা, দুটি তারা যদি সত্যিই একে অপরকে অনেক ভালোবাসে, তাহলে তারা কি কখনো পরস্পরের কাছে আসার চেষ্টা করবে না? এভাবেই কি বহুদূরে থেকে শুধু নিজেদের আলো বিনিময় করে যাবে? মহাবিশ্বের সমস্ত আকর্ষণ-বিকর্ষণ উপেক্ষা করে, কেবল নিজেদের পারস্পরিক টানে, তারা কি একবারও একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে পারবে না?
কে জানে!

মানুষ নাকি মারা গেলে আকাশের তারা হয়ে দূর মহাকাশে নতুন জীবন পায়। তাহলে ওই তারা দুটি কি এমন দুজন মৃত মানুষ, যারা পৃথিবীতে কখনো নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারেনি, অথচ মৃত্যুর পরও একে অপরের কাছে মনের কথা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে?
নাকি তারা এমন দুজন মানুষ, যারা জীবিত থাকতেই কথা দিয়েছিল—পৃথিবীতে একসঙ্গে থাকা সম্ভব না হলেও মৃত্যুর পর নতুন কোনো জীবনে আবার মিলিত হবে? কিন্তু এত আলো, এত স্পষ্ট উপস্থিতি নিয়েও তারা কেন একে অপরের কাছে আসতে পারছে না? কেন পারছে না প্রিয় মানুষটিকে বুকে আগলে নিতে—একটিবারের জন্য হলেও তার সমস্ত দূরত্ব ঘুচিয়ে দিতে?
কে জানে!
হয়তো মানুষদের মতো প্রকৃতিও প্রেমে পড়ে। হয়তো মানুষদের মতো প্রকৃতিও প্রেমে পড়ে। কিন্তু লজ্জায় কিংবা নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে না পারার অসহায়তায় নীরব থাকে। তাই তার ভালোবাসা মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না। শুধু রাতের আকাশে দুটি তারা হয়ে জ্বলতে থাকে—পাশাপাশি, অথচ বহুদূরে।